শহীদ ওসমান হাদীর ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ’ দর্শন আলোচনা করো।
প্রশ্ন: শহীদ ওসমান হাদীর ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ’ দর্শন আলোচনা করো।
শহীদ ওসমান হাদী ছিলেন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার এবং ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি একটি প্রকৃত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। নিচে তাঁর ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ’ দর্শনের মূল দিকগুলো আলোচনা করা হলো:
১. আধিপত্যবাদ বিরোধী কঠোর অবস্থান: ওসমান হাদীর দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ’-এর বিরোধিতা। তিনি মনে করতেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসন থেকে মুক্ত হতে পারেনি। তাঁর মতে, প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য দিল্লি বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি অপরিহার্য।
২. ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন: তিনি গতানুগতিক গণতন্ত্রের চেয়ে ‘ইনসাফ’ বা ন্যায়বিচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতেন। তাঁর দর্শন ছিল—রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা, যেখানে শাসক হবে জনগণের সেবক, শোষক নয়। তিনি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চেয়েছিলেন যেখানে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থাকবে না।
৩. সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ: মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে তিনি ধর্ম ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি মনে করতেন, বাংলাদেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়কে মুছে ফেলার যে ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিজম’ চলছে, তা রুখে দিতে হবে। মাদ্রাসার ছাত্রদের ‘আনকালচার্ড’ ভাবার ঔপনিবেশিক মানসিকতার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার।
৪. জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষা: তিনি বিশ্বাস করতেন, ২০২৪-এর বিপ্লব কোনো সাধারণ সরকার পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’। তাই ফ্যাসিবাদী শক্তি বা তাদের দোসরদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের তিনি ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাঁর মতে, শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করে কোনো আপস করা যাবে না।
উপসংহার: শহীদ ওসমান হাদী এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন যা হবে মেরুদণ্ড সম্পন্ন, আত্মমর্যাদাশীল এবং বহিঃশক্তির প্রভাবমুক্ত। তাঁর এই আপসহীন দর্শনই তাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘বিপ্লবের আইকন’-এ পরিণত করেছে।